Showing posts with label জাদুঘর. Show all posts
Showing posts with label জাদুঘর. Show all posts

Thursday, 28 September 2017

জাদুঘর

জাদুঘর বা সংগ্রহালয় বলতে বোঝায় এমন একটি ভবন বা প্রতিষ্ঠান যেখানে পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের সংগ্রহ সংরক্ষিত থাকে। জাদুঘরে বৈজ্ঞানিক, শৈল্পিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন বস্তুসমূহ সংগ্রহ করে সংরক্ষিত করা হয় এবং সেগুলি প্রদর্শ আধার বা ডিসপ্লে কেসের মধ্যে রেখে স্থায়ী অথবা অস্থায়ীভাবে জনসাধারণের সমক্ষে প্রদর্শিত করা হয়। বিশ্বের অধিকাংশ বড়ো জাদুঘরই প্রধান প্রধান শহরগুলিতে অবস্থিত। অবশ্য ছোটো শহর, মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলেও স্থানীয় জাদুঘর গড়ে উঠতে দেখা যায়।
অতীতকালে জাদুঘরগুলি গড়ে উঠত ধনী ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক উদ্যোগে অথবা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে। এই সব জাদুঘরে সংরক্ষিত থাকত শিল্পকর্ম, দুষ্প্রাপ্য ও আশ্চর্যজনক প্রাকৃতিক বস্তু বা পুরাবস্তু। সারা বিশ্বেই জাদুঘর দেখা যায়। প্রাচীনকালে গড়ে ওঠা আলেকজান্দ্রিয়ার জাদুঘর ছিল আধুনিককালের স্নাতক প্রতিষ্ঠানগুলির সমরূপ।
বিশিষ্ট অভিধানকার জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাশের মতে, বাংলায় "জাদুঘর" কথাটি আরবি আজায়ব্ ঘর বা আজায়ব্ খানা শব্দটির সঙ্গে তুলনীয়। বাংলায় "জাদুঘর" কথাটির অর্থ হল, "যে গৃহে অদ্ভুত অদ্ভুত পদার্থসমূহের সংগ্রহ আছে এবং যা দেখিয়া মন্ত্রমুগ্ধবৎ হ’তে হয়।"আকাদেমি বিদ্যার্থী বাংলা অভিধান মতে, "জাদুঘর" শব্দের অর্থ, "যে-ঘরে নানা অত্যাশ্চর্য জিনিস বা প্রাচীন জিনিস সংরক্ষিত থাকে।"
ইংরেজি "museum" ("মিউজিয়াম") শব্দটি এসেছে লাতিন শব্দ থেকে। ইংরেজি বহুবচনে এই শব্দের রূপটি হল "museums" (বা অপ্রচলিত শব্দ, "musea")। শব্দটির মূল উৎস গ্রিক শব্দ Μουσεῖον (Mouseion); যার অর্থ গ্রিক পুরাণের শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষক মিউজদের মন্দির। প্রাচীন গ্রিসে এই জাতীয় মন্দিরগুলিকে কেন্দ্র করে পাঠাগার ও শিল্প পুরাকীর্তির সংগ্রহশালাও গড়ে উঠতে দেখা যেত। ২৮০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দেআলেকজান্দ্রিয়ায় টলেমি প্রথম সোটার প্রতিষ্ঠিত দর্শন মিউজিয়াম (প্রতিষ্ঠান) ছিল এই জাতীয় একটি জাদুঘর। অ্যাথেন্সে প্লেটো প্রথম একটি মিউজিয়াম গ্রন্থাগার গড়ে তুলেছিলেন। যদিও পসেনিয়াসের রচনায় অন্য একটি স্থানকে "মিউজিয়াম" বলে অভিহিত করা হয়েছে। এটি হল ধ্রুপদি অ্যাথেন্সে অ্যাক্রোপোলিশের বিপরীত দিকে অবস্থিত একটি ছোটো পাহাড়। কথিত আছে, মউসিয়াস নামে এক ব্যক্তি এই পাহাড়ে বসে গান গাইতেন। বৃদ্ধ বয়সে তিনি সেখানেই মারা যান এবং সেই পাহাড়েই তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। তাঁর নামানুসারে পাহাড়টির নামকরণ হয়েছিল "মউসিয়ন" ("Mouseion")।
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বিশেষ কিছু জাদুঘর এর কথা.........


1. বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর

4. স্বাধীনতা জাদুঘর

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে


বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে অবস্থিত দেশের প্রধান জাদুঘর। এটি মার্চ ২০, ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং ৭ আগস্ট, ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ নভেম্বর তারিখে এটিকে জাতীয় জাদুঘরের মর্যাদা দেয়া হয়।
জাদুঘরটি শাহবাগ মোড়ের সন্নিকটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রমনা পার্ক ও চারুকলা ইন্সটিটিউটের পাশে অবস্থিত। এখানে নৃতত্ব, চারুকলা, ইতিহাস, প্রকৃতি এবং আধুনিক ও বিশ্ব-সভ্যতা- ইত্যাদি বিষয়ে আলাদা প্রদর্শনী রয়েছে। এছাড়া এখানে একটি সংরক্ষণাগারও রয়েছে।

ইতিহাস

১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর "দ্য ঢাকা নিউজ" পত্রিকায় প্রথম এদেশে জাদুঘর প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দের ২০ মার্চতৎকালীন সচিবালয় (বর্তমান ঢাকা মেডিক্যাল)-এ দুই হাজার রুপি তহবিল নিয়ে জাদুঘরের কার্যক্রম শুরু। বাংলার তৎকালীন গভর্নর লর্ড কারমাইকেল তৎকালীন সচিবালয়ের একটি কক্ষে এই ঢাকা জাদুঘর উদ্বোধন করেন। ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দের ৭ আগস্ট ঢাকা জাদুঘরের যাত্রা শুরু হয়।১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ আগস্ট সর্বসাধারণের জন্য জাদুঘর উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ঢাকা জাদুঘরের প্রথম অস্থায়ী কিউরেটর বা তত্ত্বাবধায়ক ছিলেনএন গুপ্ত। প্রথম কিউরেটর নলিনীকান্ত ভট্টশালী। ব্রিটিশ সরকার এদেশে জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করে বঙ্গভঙ্গ রদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে। শাহবাগ এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের জন্য একটি অত্যাধুনিক বৃহদায়তন ভবনের উদ্বোধন করা হয় ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ নভেম্বর। আট একর জমির ওপর নির্মিত চারতলা ভবনটির তিনটি তলা জুড়ে রয়েছে ৪৪টি গ্যালারি। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর স্থাপনার নকশা করেছেন দেশের প্রখ্যাত স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন।
জাতীয় জাদুঘরের বিভাগগুলো হচ্ছেঃ-
  • ইতিহাস ও ধ্রুপদী শিল্পকলা
  • জাতিতত্ত্ব ও অলঙ্করণ শিল্পকলা
  • সমকালীন শিল্পকলা ও বিশ্বসভ্যতা
  • প্রাকৃতিক ইতিহাস বিভাগ
  • সংরক্ষণ গবেষণাগার

কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে বর্তমানে ৩৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন।

নিয়ন্ত্রণাধীন জাদুঘর

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নিয়ন্ত্রণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জাদুঘরগুলো পরিচালিত হচ্ছে। সেগুলো হলোঃ-
  • আহসান মঞ্জিল জাদুঘর, ঢাকা।
  • শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা, ময়মনসিংহ।
  • ওসমানী জাদুঘর, সিলেট।
  • জিয়া স্মৃতি যাদুঘর, চট্টগ্রাম।
  • পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীন সংগ্রহশালা, ফরিদপুর।
  • সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর, কুষ্টিয়া।
  • জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর ও জাতীয় চার নেতা স্মৃতি জাদুঘর, কেন্দ্রীয় কারাগার, ঢাকা।

স্বাধীনতা জাদুঘর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

স্বাধীনতা জাদুঘর বাংলাদেশের ঢাকায় অবস্থিত একটি জাদুঘর যা দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস চিত্রিত করে। জাদুঘরটি ঢাকার ঐতিহাসিকসোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত। মুঘল সাম্রাজ্য|মুঘল শাসনামল থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালে বিজয় দিবস পর্যন্ত দীর্ঘ সংগ্রাম-ইতিহাসের সচিত্র বর্ণনা প্রদর্শন করছে জাদুঘরটি। সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন এবং এখানেই একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পন করে। স্বাধিনতা জাদুঘর বাংলাদেশের ৪৫তম স্বাধীনতা দিবস, ২০১৫ সালের ২৫ মার্চে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

স্থাপত্য

স্বাধীনতা জাদুঘরটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নির্মিত একটি বৃহৎ পরিকল্পিত নকশার অংশ। এই নকশায় রয়েছে একটি অ্যাম্ফিথিয়েটার, তিনটি জলাধার, শিখা চিরন্তন, স্বাধীনতা সংগ্রামের চিত্রবিশিষ্ট একটি ম্যুরাল এবং ১৫৫ আসন বিশিষ্ট একটি অডিটোরিয়াম। তবে পুরো নকশাটির প্রধান বিষয় হল একটি ৫০ মিটার বিশিষ্ট আলোক স্তম্ভ, যা স্বাধীনতা স্তম্ভ নামে পরিচিত। স্তম্ভটি কাচের প্যানেল দ্বারা নির্মিত। জাদুঘরটি এই স্তম্ভের নিচে অবস্থিত। পুরো জাদুঘরটি ভূগর্ভস্থ। এটিই বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র ভূগর্ভস্থ জাদুঘর। জাদুঘরটির প্লাজাটি ৫৬৬৯ বর্গমিটার বিশিষ্ট টাইল দ্বারা আবৃত স্থান। জাদুঘরের মাঝখানে রয়েছে একটি ঝর্ণা, যাতে উপর থেকে পানি পরে। বাংলাদেশী স্থপতি কাশেফ মাহবুব চৌধুরী এবং মেরিনা তাবাসসুম ১৯৯৭ সালে একটি জাতীয় স্থাপত্যিক নকশা প্রতিযোগিতা জয়ের মাধ্যমে এই প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়নের সুযোগ লাভ করেন। ৬৭ একরজুড়ে বিস্তৃত পুরো প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।

প্রদর্শনী

জাদুঘরটিতে ১৪৪টি কাচের প্যানেলে ৩০০-এরও বেশি ঐতিহাসিক আলোকচিত্র প্রদর্শিত হয়। টেরাকোটা, ঐতিহাসিক আলোকচিত্র, যুদ্ধের ঘটনা সম্বলিত সংবাদপত্রের প্রতিবেদনও প্রদর্শিত হয়। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিভিন্ন বিদেশী পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিলিপি এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিদেশে প্রচারণা সৃষ্টিতে তৈরিকৃত বিভিন্ন পোস্টারও জাদুঘরটিত প্রদর্শনীতে রয়েছে। বাংলাদেশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান এবং স্থাপনার চিত্রও রয়েছে এখানে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে যে টেবিলে তৎকালী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্ব জোনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি আত্মসমর্পণ করে স্বাক্ষর করেন, তার একটি অনুলিপি রয়েছে জাদুঘরটিতে। তবে মূল টেবিলটি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর বাংলাদেশের একমাত্র অ্যাকাডেমিক জাদুঘর যা মূলত মানব ইতিহাস, শিল্প, এবং সংস্কৃতি বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সহায়তা প্রদান, প্রত্নতত্ত্ব, ইতিহাস ও প্রাচীন শিল্পকলার নিদর্শন সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রদর্শন এবং এসব বিষয়ে মৌলিক গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনের প্রাকৃতিক এলাকায় অবস্থিত। এটি চট্টগ্রামের একমাত্র শিল্প জাদুঘর এবং দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যেও একমাত্র জাদুঘর হিসেবে বিবেচিত।
জাদুঘরটির বর্তমান স্থায়ী সংগ্রহ সংখ্যা প্রায় শতাধিক, যেখানে রয়েছে প্রাগৈতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক ভাস্কর্য, লোকশিল্প, ইসলামিক এবং সমসাময়িক শিল্পের বিভিন্ন সংগ্রহ এবং বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পকলার নিদর্শন। পাশাপাশি রয়েছে কাঠের জীবাশ্ম; ময়নামতী, মহাস্থান ও পাহাড়পুর প্রত্নক্ষেত্র হতে উৎখননকৃত বিভিন্ন শিল্পবস্ত্ত; প্রাচীন ও মধ্যযুগের মুদ্রা, শিলালিপি, পান্ডুলিপি, ভাস্কর্য, টেরাকোটা, অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র, পোষাক-পরিচ্ছদ, ধাতু শিল্পকর্ম, চীনামাটির বাসন-কোসন এবং গাত্রালঙ্কারসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র লোকশিল্প। এছাড়াও চট্টগ্রাম মহানগরের নাসিরাবাদ পাহাড় হতে প্রাপ্ত টার্সিয়ারি যুগের একটি মৎস-জীবাশ্ম এই সংগ্রহশালার সর্বপ্রাচীন নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ঐতিহাসিক দলিলপত্র; বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশ থেকে সংগৃহীত উল্লেলখযোগ্য মুক্তিযুদ্ধের পোস্টার, প্যাম্পলেট, সংবাদপত্রের কর্তনী, বিভিন্ন প্রকাশনা ও প্রশাসনিক দলিলপত্র রয়েছে এই জাদুঘরের সংরক্ষণাগারে।
একটি অ্যাকাডেমিক জাদুঘর হিসেবে গবেষণার উপকরণের সহজলভ্যতা ও সুযোগ সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ১৯৭৩ সালে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পাশাপাশি জনস্বার্থ উদ্দীপিত করার লক্ষ্যে এবং বাংলাদেশের ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব ও শিল্প ঐতিহ্যের রসাস্বাদনে উৎসাহিত করার লক্ষে জাদুঘরটি পরিচালিত হয়ে থাকে।

ইতিহাস

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া মূলত নভেম্বর ২৬, ১৯৬৬ সালে শুরু হয়, একই দিনে যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ কর্তৃক জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল জুন ১৪, ১৯৭৩ সালে।
জাদুঘর প্রতিষ্ঠার ধারণা প্রাপ্ত হয়েছিল মূলত একটি প্রদর্শনীর আয়োজনের মধ্য দিয়ে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ২৪টি প্রাচীন বস্তু প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মমতাজ হাসান, তৎকালীন পাকিস্তান জাদুঘর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উক্ত প্রদর্শনকৃত বস্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দান করেন।
প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিক আজিজুর রহমান মল্লিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য, এবং বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত অধ্যাপক ও ইতিহাস বিভাগের প্রধান এবং পরবর্তীকালীন উপাচার্য আবদুল করিম এই ধারণা থেকে সক্রিয়ভাবে উক্ত প্রত্নতত্ব সংগ্রহের বিষয়ে প্রাথমিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পরবর্তীকালীন সময়ে আজিজুর রহমান মল্লিকের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আবদুল করিমের নেতৃত্বে একটি সমন্বিত জরিপ-কার্য পরিচালিত হয় ১৯৬৭ সালের ৭, ১০ ও ১৪ মে। যেখানে ইতিহাস বিভাগের প্রথম ব্যাচের ছাত্র শামসুল হোসাইন, মামুনুল বারী, আবদুল ওহাব, কামাল উদ-দীন সহ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রথম পর্যায়ে চট্টগ্রাম-ঢাকা ট্রাঙ্ক সড়কের নিকটবর্তী চট্টগ্রাম থেকে ধুম পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিচালিত এই যৌথ জরিপের মাধ্যমে পুরাকীর্তি এবং অন্যান্য বস্তু সংগ্রহ করা হয়। এই জরিপ থেকে প্রাপ্ত দুই খণ্ড শিলালিপি এবং মেহরাবের খিলান জাদৃঘরের অন্যতম সংগ্রহ। এছাড়াও উক্ত জরিপ চলাকালে সময়ে ইতিহাস বিভাগের ছাত্র মহীউদ্দীন হোসাইন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা থেকে সংগৃহীত গরুরবাহন বিষ্ণুর একটি ভাস্কর্য জাদুঘর সংগ্রহশালায় দান করেন। এই জরিপ কার্যক্রম শেষে সংগৃহীত প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শনসমূহ ইতিহাস বিভাগের একটি কক্ষে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে তিরিশটি পুরাকীর্তির এ সংগ্রহে মধ্যে ছিল নয়টি বস্ত্রসম্ভার, চৌদ্দটি যুদ্ধাস্ত্র, দু’খণ্ড শিলালিপি, দুইটি ভাস্কর্য, এক খণ্ড স্থাপত্যাংশ এবং দুইটি পিতলের থালা।
বর্তমানে এই জাদুঘর পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন- একজন পরিচালক, একজন প্রদর্শনী কর্মকর্তা, একজন সিনিয়র ক্যাটালগার, একজন গ্রন্থাগার সহকারী, দুইজন গ্যালারি তত্ত্বাবধায়ক এবং একজন জ্যেষ্ঠ অনুসন্ধান সহকারীসহ মোট সাতজন কর্মকর্তা।

স্থান পরিবর্তন

প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে ক্ষুদ্র পরিসরে জাদুঘরের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীকালে কিছুদিন উক্ত ভবনের নিচতলার দুইটি কক্ষে পূর্বের চেয়ে বাড়তি পরিসরে কিছু সময় জাদুঘরের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল। এরপর চট্টগ্রাম শহরেরমৌলানা মোহাম্মদ আলী সড়কে অবস্থিত চট্টগ্রাম কলাভবনে (বর্তমানে জেলা শিল্পকলা একাডেমি স্বল্প পরিসরে এই জাদুঘর পরিচালিত হয় এবং এরপর পূনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের চতৃর্থ তলায় জাদুঞরটি স্থানান্তরিত হয়। সর্বমোট পাঁচবার স্থান পরিবর্তন করার পর, আগস্ট ১০, ১৯৯২ সালে স্থায়ী প্রদর্শনীর জন্য বর্তমান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার ভবনের পশ্চিম পার্শ্বে একটি দ্বিতল ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় জাদুঘরের কার্যক্রম চালু হয়। বিভিন্ন অস্থায়ী অবস্থানের পর ১৯৯২ সালে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরটি বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে, একটি দ্বিতল ভবনে স্থায়ীভাবে স্থানান্তর করা হয়।

সংগ্রহসমূহ

গ্যালারিসংগ্রহ সংখ্যা
প্রাগৈতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গ্যালারি
ভাস্কর্য গ্যালারি৭৭
ইসলামিক শিল্পকলা গ্যালারি
লোকশিল্প গ্যালারি
সমকালীন চিত্রকলা গ্যালারি
জাদুঘর ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রদর্শনীর জন্য পাঁচটি গ্যালারি রয়েছে:
জাদুঘর ভবনের প্রথম তলায় অর্ন্তভুক্ত রয়েছে:
  • আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ কোষ গ্রন্থাগার
  • প্রত্নতত্ত্ব সংরক্ষণ গবেষণাগার
  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর সংরক্ষণাগার
  • নথি ও গবেষণা সম্পদ কেন্দ্র
  • প্রদর্শনী ও কর্মশালার জন্য নির্দিষ্ট স্থান
  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর কার্যালয়
জাদুঘর ভবনের দ্বিতীয় তলায় চারটি গ্যালারিতে রয়েছে বাছাইকৃত সংগ্রহের শ্রেণিবিন্যস্ত প্রদর্শনী।

প্রাগৈতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গ্যালারি

এছাড়া রয়েছে বাঙলার প্রাগৈতাহাসিক কালের জীবনযাত্রার ছবিসহ কিছু দুর্লভ নিদর্শন। গ্যালারির কোনার দিকে আদিম জীবনের একটি ডিত্তরম প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পাহাড় এলাকার আদীম পরিবারের দৈনন্দিন চিত্র ফুটে উঠেছে। সংগ্রহশালার বৃহত অংশে রয়েছে ময়নামতি, চট্টগ্রাম বিভাগের প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, থেকে প্রাপ্ত ভাষ্কর্য, যা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ময়নামতীর পুরাকীর্তির ৫১টি প্রত্নতত্ত্ব বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের পরিচালকের নিকট থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর কর্তৃক ঋণকৃত হয়েছে। বর্তমানে এছাড়াও মহাস্থানগড় এবং পাহাড়পুর প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান থেকে প্রাপ্ত বস্তু জাদুঘরের সংগ্রহের অন্তর্গত। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া ছাপাঙ্কিত মুদ্রা, পাহাড়পুর থেকে প্রাপ্ত পোড়ামাটির ফলক, এবং বগুড়া জেলার প্রাচীনতম বস্তু রয়েছে। পাশাপাশি মহাস্থানগড় থেকে পাওয়া কিচু অষ্ট-খাদ ব্রেসলেট সংরক্ষিত এখানে রয়েছে। উপমহাদেশের এই অঞ্চলের প্রাগৈতিহাসিক উপাদানের প্রমাণ আবিষ্কারের ঘটনা দূর্লভ হলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর শুরুর দিক থেকেই প্রাগৈতিহাসিক প্রত্নতত্ত্ব সংগ্রহের বিষেয়ে সচেতন ভূমিকা রাখে এবং 'প্রাগৈতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গ্যালারি' সংগ্রহ শুরু করে। এই গ্যালারি সংগ্রহশালায় একাধিক পোড়ামাটির ফলক, ধাতুচিত্র, অলংকৃত ইট, কাদামাটির মূর্তি, প্রাচীন মুদ্রা, জপমালা এবং মৃতশিল্প প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরের নাসিরাবাদ পাহাড় হতে প্রাপ্ত টার্সিয়ারি যুগের একটি মৎস-জীবাশ্ম উপহার হিসেবে এই সংগ্রহশালার সর্বপ্রাচীন নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। এই প্রচীন জীবাশ্ম যা এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক ইতিহাস অধ্যয়ন এবং গবেষণায় সহায়ক হিসেবে পরিগনিত। এছাড়াও রয়েছে অসামান্য কাঠের জীবাশ্ম। এই সংগ্রহশালায় রয়েছে বাঙলার প্রাচীন স্থানসমূহের কিছু সংখক মূর্তি, যার বেশিরভাগ কাদামাটি দিয়ে তৈরি। মূর্তিগুলো সাধারণত পশু এবং মানুষের গঠন প্রকাশ করে থাকে। এছাড়াও পোড়ামাটি দিয়ে সজ্জিত মন্দিরের অভ্যন্তর ও বাহিরের ভাস্কর্যের বিভিন্ন নমুনা পাওয়া যায় এই সংগ্রহশালায়।

ভাস্কর্য গ্যালারি

ভাস্কর্য গ্যালারিতে সংরক্ষিত বিভিন্ন ভাস্কর্যসর্মহ, গৌরবময় অতীতের চাক্ষুষ উপস্থাপনা হিসাবে এই সংগ্রহশালার সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু হিসেবে বিবেচিত, যার মাধ্যমে আদীম সামাজিক-সাংস্কৃতিক অবস্থার দৃষ্টান্ত চাক্ষুষ উপলব্ধি সম্ভব। এই সংগ্রহশালায় ৫২টি পাথর এবং ২৫টি ব্রোঞ্জ ভাস্কর্য রয়েছে। এই সংগ্রহের একটা বড় অংশ বাংলাদেশের শুল্ক ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাজেয়াপ্তকৃত হবার পর পুরাকীর্তি হিসেবে এখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এখানে রয়েছে কষ্ঠিপাথরের প্রায় ৩০টি মূর্তি এবং ধাতু নির্মিত ভাস্কর্য যেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাস চিত্রিত হয়েছে, যার অধিকাংশই পাল সাম্রাজ্য (৮০০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ) সময়ের হিন্দু রীতির অন্তর্গত। সংগ্রহে গুপ্ত সাম্রাজ্যের (৩২০ - ৫৫০ খ্রিস্টাব্দ) একটি সূর্য মূর্তি রয়েছে। এই ব্রাহ্মণ্য এবং বৌদ্ধ প্রতিকৃতি থেকে তৎকালীন সময়ের বিশ্বাস, আচার-আচরণ, রীতিনীতি, বাস্তবায়ন, পোষাক শৈলী, গাত্রালঙ্কার, কেশবিন্যাস-প্রণালী এবং প্রাচীনত্ব থেকে অন্যান্য প্রচীন ধারনা পাওয়া যায়। পাথরের ভাস্কর্যের মধ্যে কালানুক্রমিকভাবে যথাক্রমে রয়েছে বৈষ্ণব, শিব, সুরিয়া, শাক্ত, এবং গাণপত্য পৌরাণিক চরিত্রসমূহের মূর্তি এবং ভাষ্কর্য। যার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যভাবে ভাস্কর্যের দক্ষতা, পৃষ্ঠপোষকদের আবেগ এবং ভক্তি চিত্র ফুটে উঠে। এথানে রয়েছে চট্টগ্রামের মিরসরাইথেকে প্রাপ্ত ৯ম শতকের সেন্ড পাথরের ভাস্কর্যের গরুড় রাধা বিষ্ণুর একটি প্রাচীনতম নিদর্শন। অন্যদিকে রয়েছে, কাঠ এবং ধাতু নির্মিত ভাস্কর্য।
২০১১ সালে, শামসুল হোসেন, জাদুঘরের সাবেক ডেপুটি কিউরেটর কর্তৃক প্রস্তুতকৃত পাথরের ভাস্কর্য উপর একটি বর্ণনামূলক পঞ্জি প্রকাশিত হয়, যা বাঙলার ভাস্কর্য এবং মূর্তিতত্ত্ব বিষয়ে বিদ্যমান গবেষণার কাজে অন্যতম ভূমিকা রাখে।

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ কোষ গ্রন্থাগার

এই কোষ গ্রন্থাগারে "চট্টগ্রাম কোণ" নামে একটি স্বতন্ত্র স্থান, বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চল সম্পর্কিত বইয়ের সংগ্রহের জন্য শ্রেণীবদ্ধ রয়েছে। ক্যাপটেন পোগসনের চট্টগ্রাম ভ্রমণকালীন আখ্যান, ফারসি ভাষায় মৌলভী হামিদ-আল্লাহ খান রচিত প্রথম স্থানীয় ইতিহাস হাদীস আল-খোয়ানিন বা তারিখ-ই-চ্যাথাম, তরকচন্দ্র দাস গুপ্ত রচিত প্রথম বাংলা স্থানীয় ইতিহাস চট্টগ্রামের ইতিবৃত্ত, ডক্টর সুনীতি ভূষণ কানুনগো রচিত চট্রগ্রামের একটি ইতিহাস, মিজবাউদ্দিন খান রচিত চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাস, পার্বত্য চট্টগ্রাম, রাজমালা (১৪৩১), আলাওল রচিত কাব্য পদ্মাবতী (১৬৪৮) প্রভৃতি এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। জাদুঘরে, প্রখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক এবং মধ্যযূগীয় পুঁথি সংগ্রাহক আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের সম্মানে 'আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ কোষ গ্রন্থাগার' নামে একটি গ্রন্থাগার রয়েছে। যেখানে রয়েছে তালপাতা এবং তুলট কাগজে লেখা দূর্লভ পুঁতিসমগ্র। এই গ্রন্থাগারে মূর্তিতত্ত্বলেখতত্ত্ব,মুদ্রাতত্ত্বস্থাপত্য, ক্ষুদ্র ও লোকশিল্প এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক সম্পদ সম্পর্কে গবেষণায় সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট পুস্তক ও সাময়িকীর দূর্লভ সংগ্রহ রয়েছে। এটি মূলত অধ্যয়ন এবং শিল্পকর্ম ও প্রত্ননিদর্শন চিহ্নিতকরণের জন্য একটি কার্যকর কোষ গ্রন্থাগার হিসেবে পরিচিত। গ্রন্থাগারটি প্রায় ৪,০০০ প্রাচীন বই এবং ২,০০০ মূল্যবান নথিপত্রে সমৃদ্ধ। এছাড়াও এই কোষ গ্রন্থাগার সংগ্রহশালায় রয়েছে ধর্ম ও দর্শন, মুদ্রাতত্ত্ব, লিপিতত্ত্ব, লোকশিল্প এবংকারুশিল্পনৃবিজ্ঞানজাতিতত্ত্বপ্রাচীন লিপি-বিজ্ঞানভূগোল ও ভূতত্ত্বইতিহাসপ্রত্নতত্ত্বললিতকলা, স্থাপত্য, প্রদর্শনশালাসংক্রান্ত বিদ্যা, মূর্তিতত্ত্ব,ক্ষুদ্র কলাসঙ্গীততত্ত্ব ও নৃত্যসমাজবিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস প্রভৃতি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর বই। উল্লেখিত বিষয়ের বইসমূহ সতন্ত্রভাবে শ্রেণীকরণ করা হয়েছে যেখানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনার একটি নিজস্ব তাক রয়েছে।
এছাড়াও ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বৃহৎ খণ্ড, এপিগ্রাফিয়া ইন্ডিকা, ভারতীয় লিপিতত্ত্বের বার্ষিক প্রতিবেদন, ভারতীয় ঐতিহাসিক বিষয়ে ত্রৈমাসিক, বাংলাদেশে দূর্লভ শিল্প সংগ্রহ প্রভৃতি অর্ন্তভূক্ত রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর সংরক্ষণাগার

গবেষকদের ব্যবহারের জন্য প্রাচীন ও দুর্লভ আরবি, ফার্সি, সংস্কৃত, পালি ও বাংলা পান্ডুলিপি; দুষ্প্রাপ্য ছাপানো বই, পুস্তিকা, প্রচারপত্র, পোস্টার, প্রকাশনা, সাময়িকী, পত্রিকা, সংবাদপত্রের কর্তনী, আরবি ও ফারসি নথি, এবং অন্যান্য সংরক্ষণ উপকরণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর সংরক্ষণাগার সমৃদ্ধ। এছাড়াও গবেষকদের ব্যবহারের সুবিধার জন্য এ সমস্ত পান্ডুলিপির বর্ণনামূলক পঞ্জি রয়েছে। সংরক্ষণাগারে আরো রয়েছে বাংলাদেশের হবিগঞ্জের একটি বেসরকারি জাদুঘর থেকে সংগৃহীত আহোরণী নামে একটি প্রাচীন মুদ্রিত বই। বইটি ১৯৭৫ সালে সংগ্রহ করা হয়েছির। মরিচ পাতায় এবং পুরোনো কাগজে লিখিত প্রাচীন পালি ও সংস্কৃত পান্ডুলিপির ৯৮টি টুকরা, যা এখনো উক্ত বিষয়ে দক্ষতার অভাবে অনূদিত হয় নি। সংরক্ষণাগারে দুর্লভ বই, পত্রিকা এবং দুষ্প্রাপ্য মানচিত্রাবলীর সংগ্রহ রয়েছে; যার মধ্যে জেমস রেনেলের "হিন্দুস্থান বা মুঘল সাম্রাজ্য এবং তার বেঙ্গল মানচিত্র" (ইংরেজি: Memoir of a map of Hindustan or the Mughal empire and his Bengal atlas) উল্লেখযোগ্য।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের অন্যান্য সংগ্রহের সঙ্গে এই সকল নথির বিভিন্ন প্রদর্শনীর আয়োজন পণ্ডিত, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, এবং সাধারণ দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করার বিষয়। এছাড়াও ১৯৯৬ সালে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে "মুক্তি যুদ্ধের দলিল পত্রের বিশেষ প্রদর্শনী" শিরোনামে এক বিশেষ প্রদর্শনীতে উক্ত নথি তালিকা ধারণকারী একটি ছোট পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর সংরক্ষণাগার কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম:
  • মুক্তিযুদ্ধ কর্নার
  • চট্টগ্রাম কর্নার
  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্নার
  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর প্রকাশনা
  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা

মুক্তিযুদ্ধ কর্নার

এই সংরক্ষণাগার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিপুল নথির মূল্যবান সংগ্রহ রয়েছে, যা দেশ-বিদেশ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের নিকট থেকে সংগৃহীত হয়েছে, যেখানে রয়েছে আলোকচিত্র, চিঠি, প্রকাশনা ও পোস্টার। এই সংগ্রহে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ের টাইম, নিউজউইক, দ্য ইকনমিস্ট এবং বিশ্বের অন্যান্য নেতৃস্থানীয় প্রত্রিকার এবং প্রকাশনা সংগ্রহ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও রয়েছে মুক্তযুদ্ধের দূর্লভ দলিলপত্র, স্মারক গ্রন্থ এবং মুক্তিযুদ্ধে নিহত হওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বের হওয়া বিভিন্ন প্রকাশনা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর প্রকাশনা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর প্রকাশনার বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত বিষয়ের মধ্যে অর্ন্তভূক্ত রয়েছে মুদ্রা পঞ্জি ও প্রদর্শনীর সুবিন্যস্ত তালিকা এবং একাধিক বক্তৃতা বিবরণী। এছাড়াও এখান থেকে প্রকাশিত হয়েছে জাদুঘরে সংগৃহীত বিভিন্ন পাথরের ভাস্কর্যের বিবরণমূলক পঞ্জি।

মিউজিয়াম অব ইসলামিক আর্ট, দোহা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে


মিউজিয়াম অব ইসলামিক আর্ট কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থিত একটি জাদুঘর। এই জাদুঘরটি স্থপতি আই. এম. পাই নকশা করেছেন।

সুবিধাদি

মিউজিয়াম অব ইওলামিক আর্টের মূল ভবনের পেছনে একটি ২৮০,০০০ বর্গমিটার বিশিষ্ট পার্ক রয়েছে। পাঁচতলা বিশিষ্ট এই জাদুঘরে রয়েছে একটা গিফট শপ, পাঠাগার, শ্রেণীকক্ষ এবং একটি ২০০-আসন বিশিষ্ট থিয়েটার। নামায পরা ও ওযু করার জন্য জাদুঘরে রয়েছে বিশেষ স্থান। এছাড়া জাদুঘরে আছে রেস্টুরেন্ট, যেখানে অ্যারাবিক খাবারের পাশাপাশি ফ্রেঞ্চ, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের খাবার পাওয়া যায়।

স্থাপত্য

জাদুঘরটির স্থাপত্য প্রাচীন ইসলামী স্থাপত্য দ্বারা প্রভাবিত। তথাপি এর রয়েছে অনন্য স্থাপনাশৈলী। এই স্থাপনাশৈলীর ভবন এই অঞ্চলে এটাই প্রথম। জাদুঘরে ইসলামী শিল্পকলার বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। এছাড়া গবেষণা ও পড়ার জন্য আছে পাঠাগার। সাবিহা আল খেমির ২০০৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত জাদুঘরটির প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক ছিলেন।
মিউজিয়াম অব ইসলামিক আর্ট ৪৫,০০০ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত। স্থানটি আসলে একটা কৃত্রিক উপদ্বীপ, এখান থেকে দোহা উপসাগরের দক্ষিণ প্রান্ত দেখা যায়। জাদুঘরটির নির্মাণ কাজ ২০০৬ সালে শেষ হয়, কিন্ত পরবর্তীকালে কয়েকবার জাদুঘরের অভ্যন্তরীণ নকশায় পরিবর্তন করা হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৮ সালের ২২ নভেম্বরে জাদুঘরটি উদ্বোধন করা হয়। জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় ২০০৮ সালের ৮ ডিসেম্বরে।
জাদুঘরটির স্থপতি ছিলেন আম. এম. পাই। এসময় তাঁর বয়স ছিল ৯১ বছর। নকশা করার পূর্বে আই. এম. পাই প্রায় ছয় মাস ধরে মুসলিম বিশ্ব ভ্রমণ করেন মুসলিম স্থাপত্য ও ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান লাভের জন্য। এছাড়া তিনি ইসলামিক ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে পড়ালিখা করেন। জাদুঘরের জন্য প্রস্তাবিত সবগুলো স্থানকে অগ্রাহ্য করে আই. এম. পাই কাতার কর্তৃপক্ষের কাছে একটি নতুন স্থানের আবেদন জানান। এর কারণ ছিল এমন একটি স্থানে জাদুঘরটি নির্মাণ করা যাতে জাদুঘরের উপরে ভবিষ্যতে স্থাপনা দখলের সম্ভাবনা না থাকে। পরবর্তিতে জাদুঘরটি দোহা উপসাগরের উপর নির্মিত হয়। এর পাশে নির্মাণ করা হয় একটি পার্ক। পাই কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন লুভর জাদুঘর নকশায় তাঁর সহকারী প্রতিষ্ঠান উইলমোট এন্ড অ্যাসোসিয়েটসকে এই কাজে নিয়োগ দেবার জন্য। অনুমতি পাবার পরে এই কাজে আরোক নিযুক্ত হয় ভবনের আলো নকশাকারী প্রতিষ্ঠান আইসোমেট্রিক্ত লাইটিং + ডিজাইন, পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক নকশা প্রতিষ্ঠান এভি কনসালটেন্টস। কাঠামোগত নকশার জন্যে কাজ করেছে লেসলি এ. রবার্টসন অ্যাসোসিয়েটস।
চিত্রশালা










মাদাম তুসো জাদুঘর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

মাদাম তুসো জাদুঘর যুক্তরাজ্যের লন্ডন নগরে অবস্থিত, মোম দিয়ে তৈরী বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ও বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের মূর্তির সংগ্রহশালা। মাদাম ম্যারি তুসো নামীয় এক ফরাসী মহিলা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সংগ্রহশালাই পরবর্তীকালে মাদাম তুসো জাদুঘর নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রধান প্রধান নগরগুলোয় এ জাদুঘরের শাখা রয়েছে। লন্ডনের পর্যটনশিল্প ও অর্থনীতিতে মাদাম তুসো জাদুঘর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধুমাত্র মোম দিয়ে গঠিত জাদুঘরটিতে ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত ও রাজকীয় ব্যক্তিত্ব, চলচ্চিত্র তারকা, তারকা খেলোয়াড় থেকে শুরু করে খ্যাতনামা খুনী ব্যক্তিদের মূর্তিও সযত্নে রক্ষিত আছে।

ইতিহাস


মেরী তুসো ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তার নাম ছিল আনা মারিয়া গ্রোসোল্জ (১৭৬১ - ১৮৫০)। তার মা সুইজারল্যান্ডের বার্নে ডাঃ ফিলিপ কার্টিয়াসের বাড়ীতে গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করতেন। ডাঃ ফিলিপ কার্টিয়াস ছিলেন একজন চিকিৎসক এবং মোমের ভাস্কর্য তৈরীতে দক্ষ ছিলেন। কার্টিয়াস তুসোকে মোমের ভাস্কর্য তৈরীর যাবতীয় কলা-কৌশল শেখান। ১৭৭৭ সালে তুসো তাঁর প্রথম মোমের তৈরী ভাস্কর্যের জন্য ভলতেয়ারকে বেছে নেন এবং সফলকাম হন। এছাড়াও, ঐ সময়ের অন্যান্য জনপ্রিয় ও বিখ্যাত ব্যক্তি হিসেবে তিনি জঁ জাক রুশো এবং বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের ভাস্কর্যও তৈরী করেন। ফরাসী বিপ্লবের সময়কালে তিনি অনেকগুলো ঘটনার চিত্রকর্ম মূর্তি হিসেবে তৈরী করেন। ঐ বিপ্লবের কথা স্মরণ করে তিনি দাবী করেন যে, প্রয়োজনে মৃতদেহের মুণ্ডু হন্যে হয়ে খোঁজ করতেন ও মুখোশ তৈরী করতেন। পরবর্তীতে মৃতদেহের মুখোশগুলো পতাকায় সম্মুখভাগে তুলে ধরাসহ শোভাযাত্রার সময় প্যারিসের রাস্তায় প্রদর্শনের জন্য ধারণ করে রাখা হয়েছিল।

প্রদর্শনী


১৭৯৪ সালে ডঃ ফিলিপ কার্টিয়াসের মৃত্যুর পর তুসো যাবতীয় মোমের মূর্তির মালিক হন এবং মূর্তিগুলো প্রদর্শনীর জন্য পরবর্তী ৩৩ বছর ইউরোপের সর্বত্র ভ্রমণ করে ব্যয় করেন। ১৭৯৫ সালে তিনি ফ্রাঙ্কোস তুসোকে বিয়ে করেন এবং নতুন নামধারণ করেন মাদাম তুসো। ১৮০২ সালে মূর্তি শিল্পের পথিকৃৎ পল ফিলিডোরের আমন্ত্রণে লন্ডনের লিশিয়াম থিয়েটারে তার মোম কার্যের প্রদর্শনী করেন। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিলেন না মাদাম তুসো। বরঞ্চ প্রদর্শনী থেকে লাভের অর্ধাংশ পল ফিলিডোর নিয়ে যান। তাই, নেপোলিয়নের যুদ্ধের পর তিনি ফ্রান্সে ফিরে আসতে পারেননি। গ্রেট ব্রিটেন এবং আয়ারল্যান্ডে তার মোমের সংগ্রহশালা নিয়ে ঘুরে বেড়াতে থাকেন।




জাদুঘর প্রতিষ্ঠা


১৮৩১ সাল থেকে মাদাম তুসো সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বেকার স্ট্রিট বাজারের উপর তলা ভাড়া নেন যা বেকার স্ট্রিটের পশ্চিম পার্শ্বে এবং ডোরসেট স্ট্রিট ও কিং স্ট্রিটের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত। পরবর্তীতে ১৮৩৬ সালে এটি তুসোঽর প্রথম স্থায়ী নিবাস হিসেবে পরিগণিত হয়েছিল। ১৮৩৫ সালে লন্ডনের বেকার স্ট্রিটে অবস্থান করে একটি যাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত যাদুঘরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ঽভৌতিক কক্ষঽ। এতে ফরাসী বিপ্লবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিসহ নতুন কোন খুনী ও ঘাতকদের মূর্তি রয়েছে। নামটি পাঞ্চ ম্যাগাজিনে ব্যবহার করা হয় ১৮৪৫ সালে। কিন্তু এ নামকরণটি মেরী তাঁর নিজস্ব সৃষ্ট বলে দাবী করেন এবং বিজ্ঞাপন হিসেবে ১৮৪৩ সালের প্রথমদিকে ব্যবহার করেছেন।


ক্ষতিগ্রস্ত

২০০৮ সালের জুলাই মাসে মাদাম তুসো জাদুঘরের বার্লিন শাখাটি বিব্রতকর ও বিরূপ পরিবেশের মুখোমুখি হয়। ৪১ বছর বয়সী একজন জার্মান ব্যক্তি দুইজন নিরাপত্তা প্রহরীকে এড়িয়ে আডলফ হিটলারের মোমের ভাস্কর্যটির ব্যাপক ক্ষতি করে। ধারণা করা হয় যে, নাৎসীবাদী জার্মানীর স্বৈরশাসক হিটলারের মূর্তির সাথে খ্যাতনামা খেলোয়াড়, চলচ্চিত্র তারকা এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের অবস্থানের ফলেই এটি ঘটেছে। পরবর্তীকালে অবশ্য ভাস্কর্যটির মেরামত করা হয়।


আডলফ হিটলারের মূল ভাস্কর্যটি এপ্রিল, ১৯৩৩ সালে লন্ডনের মাদাম তুসো জাদুঘরে উন্মোচন করা হয়। এরপর থেকে এ ভাস্কর্যটিও ধারাবাহিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ১৯৩৬ সালে ভাস্কর্যটি পরিবর্তন ও মেরামত করতে বাধ্য হয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করা হয়।

অবস্থান


সেন্ট্রাল লন্ডনের উত্তরে, অলসপ প্লেস এবং মেরিলিবোন রোডের কোণায় মাদাম তুসো জাদুঘরের অবস্থান। জুবিলী, ব্যাকারলু, মেট্রোপলিটন, সার্কেল এন্ড হ্যামারস্মিথ এবং সিটি লাইনের নিকটবর্তী পাতাল স্টেশন থেকে যাওয়া যায়। সবুজ ও অর্ধ-গোলাকার ছাদ বা গম্বুজে মোড়ানো জাদুঘরটির পার্শ্বেই লন্ডন গ্রহগৃহ অবস্থিত।

পরিদর্শনের সময়সীমা

সাধারণত রবিবার এবং বিদ্যালয়ের ছুটি ভিন্ন সপ্তাহের যে-কোন দিন স্থানীয় সময় সকাল ৯:৩০ থেকে বিকাল ৫:৩০ পর্যন্ত অফ-পিক আওয়ারে খোলা থাকে। পিক-আওয়ারে সকাল ৯:০০ থেকে বিকাল ৫:০০ পর্যন্ত জাদুঘরটির দরজা খোলা শুরু হয়। এ পর্যায়ে সপ্তাহের শেষ দিন, যুক্তরাজ্যের বিদ্যালয় অবকাশ, ব্যাংক ছুটি এবং জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত পুরো গ্রীষ্মকাল অন্তর্ভুক্ত। ২০০৮ সালে গ্রীষ্মকালে এর কার্যকাল ছিল সকাল ৯:০০ থেকে সন্ধ্যে ৭:০০ পর্যন্ত।


এই মোমের জাদুঘর পরিদর্শনের দূর্বার আকর্ষণ অনেকক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমার পূর্বেই বিভিন্ন কারণে শেষ হয়ে যেতে পারে। জাদুঘর পরিদর্শনের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তি সম্পাদনের ফলেই কেবল এমনটি হয়ে থাকে। এছাড়াও, দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াজনিত কারণে বিশেষতঃ তুষারপাত, শৈত্য ঝড় কিংবা প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতের দরুণও জাদুঘর বন্ধ থাকে।


মালিকানা স্বত্ত্ব


বর্তমানে মাদাম তুসোর মোমের জাদুঘর লন্ডনের পর্যটকদের অন্যতম জনপ্রিয় পীঠস্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও দর্শকদের কাছে জাদুঘরটির বিপুল চাহিদার প্রেক্ষিতে এর কয়েকটি শাখা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে। তন্মধ্যে - আমস্টারডাম, ব্যাংকক, হংকং (ভিক্টোরিয়া পীক), লাস ভেগাস, সাংহাই, বার্লিন, ওয়াশিংটন ডি.সি, নিউ ইয়র্ক সিটি এবং হলিউড অন্যতম। বর্তমানে মার্লিন এন্টারটেইনমেন্ট গ্রুপ মাদাম তুসো জাদুঘরের স্বত্ত্বাধিকারী।